Showing posts with label বুদ্ধ পূর্ণিমা. Show all posts
Showing posts with label বুদ্ধ পূর্ণিমা. Show all posts

রাঙ্গুনিয়ায় বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ধর্মসভা

রাঙ্গুনিয়ায় বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও ধর্মসভা
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: ‘গৌতম সিদ্ধার্থের জম্ম, বোধিজ্ঞানলাভ ও মহাপরিনির্বাণ’ এই ত্রিস্মৃতি বিজড়িত শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা  (বৈশাখী পূর্ণিমা) উদযাপন উপলক্ষ্যে ধর্মসভা শনিবার (২মে) রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পাবলিক হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম পর্বে বিশ্ব শান্তি কামনায় মঙ্গল শোভাযাত্রা উপজেলার সৈয়দবাড়ী ধর্মচক্র বিহার থেকে শুরু হয়ে কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়। ২য় পর্বে শুরু হয় ধর্ম সভা। বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ভদন্ত বিমল জ্যোতির সভাপতিত্বে ও মনি লাল তালুকদারের সঞ্চালনায় উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধর্মসভা উদযাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা অজিতানন্দ মহাস্থবির। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়–য়া, ড.হাছান মাহামুদ এমপি’র প্রতিনিধি  এনায়েতুর রহিম।  স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদযাপন পরিষদের সমন্বয়কারী তরুণ বিকাশ বড়–য়া। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, ভদন্ত ধর্মসেন মহাস্থবির, ভদন্ত বিজয় রক্ষিত, ভদন্ত রাজগুরু ইন্দাচারা, ভদন্ত সুমঙ্গল মহাস্থবির প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মো. সেলিম, রিপন বড়–য়া,  দীপংকর থের, অরুন বড়–য়া প্রমুখ। ধর্ম সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।    
Read More

▬▬▬ஜ۩۞ আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা۞ ۩ஜ▬▬▬

▬▬▬ஜ۩۞ আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা۞ ۩ஜ▬▬▬

বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বৈশাখ মাসের এই পূর্ণিমা দিবসে মহামানব বুদ্ধের জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল বলে দিনটি ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ নামে খ্যাত। খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দের এ দিনে গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন, ৫৮৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এ দিনে তিনি সাধনায় সিদ্ধি লাভ করে জগতে বুদ্ধ নামে খ্যাত হন এবং ৫৪৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এ দিনে তিনি মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। সিদ্ধার্থের বুদ্ধত্বলাভের মধ্য দিয়েই জগতে বৌদ্ধধর্ম প্রবর্তিত হয়।
বৌদ্ধ সাহিত্য থেকে জানা যায় যে, পূর্বজন্মে বোধিসত্ত্ব সকল পারমি পূরণ করে সন্তোষকুমার নামে যখন স্বর্গে অবস্থান করছিলেন, তখন দেবগণ তাঁকে জগতের মুক্তি এবং দেবতা ও মানুষের নির্বাণ পথের সন্ধান দানের জন্য মনুষ্যকুলে জন্ম নিতে অনুরোধ করেন। দেবতাদের অনুরোধে বোধিসত্ত্ব সর্বদিক বিবেচনাপূর্বক এক আষাঢ়ী পূর্ণিমায় স্বপ্নযোগে মাতৃকুক্ষিতে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী এক শুভ বৈশাখী পূর্ণিমায় জন্মলাভ করেন। তাঁর জন্ম হয়েছিল লুম্বিনী কাননের শালবৃক্ষ ছায়ায় উন্মুক্ত আকাশতলে। তাঁর নিকট জাতি, শ্রেণি ও গোত্রের কোনো ভেদাভেদ ছিল না। তিনি মানুষকে মানুষ এবং প্রাণীকে প্রাণিরূপেই জানতেন এবং সব প্রাণসত্তার মধ্যেই যে কষ্টবোধ আছে তা তিনি মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতেন। তাই তিনি বলেছিলেন ‘সবেব সত্তা ভবন্তু সুখীতত্তা’ জগতের সব প্রাণী সুখী হোক। এই মর্মচেতনা জাগ্রত করা এবং এই পরম সত্য জানার জন্য তিনি ২৯ বছর বয়সে সংসার ত্যাগ করেন। সত্যের সন্ধানে পরিভ্রমণ করতে করতে এক সময় তিনি গয়ার উরুবেলায় (বুদ্ধগয়া) গিয়ে নিবিষ্টচিত্তে সাধনামগ্ন হন। দীর্ঘ ছয় বছর অবিরাম সাধনায় তিনি লাভ করেন সম্যক সম্বুদ্ধ বা বুদ্ধত্ব। সেদিনও ছিল বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথি।
বুদ্ধত্ব লাভের পর বুদ্ধদেব জীবের মুক্তি কামনায় ‘ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র’ নামে জীবনের সর্ববিধ ক্লেশ থেকে মুক্তির উপায় আবিষ্কার করেন। তিনি চতুরার্যসত্য নামে খ্যাত এক তত্ত্বে জীবনে দুঃখের উৎপত্তি ও দুঃখভোগের কারণ এবং দুঃখ থেকে মুক্তির পথ নির্দেশ করেন। মুক্তির এই পথনির্দেশনাকে বলা হয় আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ বা আটটি আর্যপথ। দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর তিনি প্রাচীন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল পরিভ্রমণ করে তাঁর এই ধর্মতত্ত্ব প্রচার করেন। রাজা-প্রজা, ধনী-নির্ধন, কুলীন-অন্ত্যজ সর্বশ্রেণীর মানুষের নিকট মুক্তির কথা তুলে ধরে তিনি জগতে এক নতুন ধর্মাদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন। আশি বছর বয়সে হিরণ্যবতী নদীর তীরে কুশিনারার মল্লদের শালবনে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগপূর্বক তিনি মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন।এই মহাপরিনির্বাণ লাভের ক্ষণও ছিল বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথি।
বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে বৌদ্ধরা বুদ্ধপূজাসহ পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ, সমবেত প্রার্থনা এবং নানাবিধ মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তারা বুদ্ধানুস্মৃতি ও সংঘানুস্মৃতি ভাবনা করে। বিবিধ পূজা ও আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিবিধ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। বৌদ্ধ বিহারগুলিতে বুদ্ধের মহাজীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনাসহ ধর্মীয় সভার আয়োজন করা হয়। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও নানা উৎসবমুখর আনুষ্ঠানিকতার ধুম পড়ে যায়। এই পূর্ণিমাকে ঘিরে অনেক বৌদ্ধবিহারে চলে তিনদিনব্যাপী নানামুখী অনুষ্ঠান। বৌদ্ধধর্মীয় পর্ব হিসেবে এ দিনে সাধারণ সরকারি ছুটি থাকে। রেডিও, টেলিভিশনে প্রচার করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। দৈনিক সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ সংখ্যা কিংবা ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন বিহার ও সংগঠন কর্তৃক স্মরণিকা, ম্যাগাজিন ও স্মারকগ্রন্থও প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন গ্রামে ও বিহারে এদিন মেলা বসে। তন্মধ্যে চট্টগ্রামের বৈদ্যপাড়া গ্রামের বোধিদ্রুম মেলা বিখ্যাত।
Read More